উম্মুল হাম্মাম রোড থেকে আল ফারাবী রোডের দিকে ঘোরার সময় গাড়িটা একটু শব্দ করে কেঁপে উঠলো। একটু জোরে এক্সেলেটরে পা রাখতেই সামনের মনিটরে টুংটুং শব্দে চেক ইঞ্জিন সিগনাল হাজির।

আমার ছেলে অবশ্য টুংটুং শব্দ শুনলে মনে করে তেল তেল বলে গাড়ি চিৎকার করছে। আল ফারাবী রোড থেকে ডানে মোড় নিতে যাবো, ফস করে বের হয়ে গেলো একটা ফেরারী।

বুকের কোথায় যেন চিনচিন করে ব্যাথা করে উঠলো। আমার ঘুট্টুং ঘাট্টুং গাড়িটার বদলে এমন একটা ফেরারী থাকতে পারতো।

একটু সামনে যেতেই চেক পোষ্ট। ডিপ্লোম্যাটিক কোয়ার্টারে ঢোকার মুখে আমার সামনেই সেই ফেরারী। সিকিউরিটি পাস করে এগিয়ে গেলো সে। চেকিং কর্মকর্তা মুখ নামিয়ে আমার কাছে আসতেই প্রতিষ্ঠানের নাম বললাম; ছেড়ে দিলো। চিনচিন ব্যাথা নিয়ে এগিয়ে যেতেই চোখে পড়লো সেই ফেরারী।

ডিপ্লোম্যাটিক কোয়ার্টারের ভিতরে রাস্তার মাঝে পথচারী পারাপারের জন্য ইয়া উঁচু উঁচু স্পীডব্রেকার বসানো। ফেরারী ফেসেছে সেখানে। ফাঁসেনি ঠিক, চরম স্লো করে রাস্তা পার হতে হচ্ছে। কারণ জোরে টান দিলেই গাড়ি আটকে যাবে এই স্পীডব্রেকারে। সাধারণত আমি এই স্পীডব্রেকারে গাড়ি স্লো করি; কেন যেন আজ আর তা হলো না।

ফস করে গাড়ি টান দিয়ে বিকট ঘট্টাং শব্দ করে বের হয়ে গেলাম, আর ব্যাক মিররে কল্পনায় ছবি আকলাম, ঐ ফেরারীর মালিকের বুকে কোথাও চিনচিন ব্যাথা হচ্ছে।

—————————

কথায় আছে দুধের সাধ ঘোলে মেটানো। খুব সম্ভবত ঘোলের দাম দুধ থেকে কম; এজন্য এমনটা বলা হয়। কারণ ঘোল আর দুধের স্বাধ ধারে কাছেও না।

—————————

আমার নিজের জন্য কেন যেন মাঝে মাঝে দুধের সাধ ঘোলেই মেটাতে ইচ্ছা করে। কখনও বিলগেটস বা ইলনমাস্ক হবার স্বপ্ন দেখি না। এত টাকা ইনকাম করতে যা করা লাগে, আমি তার জন্য রেডি না। আর এত টাকা দিয়ে কি করবো সেটাও ঠিক ভেবে পাই না।

—————————

একজন কলিগ জিজ্ঞাসা করতেছিলেন যে ওমুক পোষ্টে আমি কতদিনের মধ্যে যেতে পারি বলে মনে করি। কাট কাট জানিয়ে দিলাম ঐ পোষ্টে যাবার ইচ্ছা আমার নাই।

—————————

গত কয়েকদিন থেকে গাড়িটার সমস্যা হচ্ছে। একেতো বছর খানেক ধরে এসি নষ্ট। রিয়াদের এই উত্তপ্ত রাস্তায় কিভাবে এসি ছাড়া স্বাচ্ছন্দে ঘুরছি সেটা আল্লাহ ভালো জানেন। এসি একটা লাগাবো, ইন শা আল্লাহ। কবে লাগাবো? আগামী মাসের বেতন পেয়েই! এই আগামী মাস কোন আগামী মাস, সেটা খুব সম্ভবত ঈদের পরে জানা যাবে; এবং কোন ঈদের পরে, সেটাও খুব সম্ভবত ঈদের পরে জানা যাবে।

—————————

আমার মত এম্বিশন ছাড়া মানুষ খুব একটা দেখিনি আমি। আমার অফিসের সবচাইতে খারাপ পারফরমেন্স যেই লোকের, সেই লোকও ঐ উপরে যে পোষ্টের কথা বললাম, নিজেকে সেই পোষ্টের আসল অধীকারী মনে করে।

তবে পরিচয় হয়েছে এক ভাইয়ের সাথে, সে আর আমি একই রকম এম্বিশন ছাড়া মানুষ। তার কথা, বাপে যে বাড়ি বানাইছে একটা দুইটা ফ্লাটতো পাবো। আমি হিসাব করি, বাপেতো কিছু বানায় নাই; তার জীবন চলছে, আমারটা চলতে সমস্যা কই?

—————————

কয়েক বছর আগে আমরা ঢাকাতে একটা আয়োজন করেছিলাম, নাম ছিলো CSO Summit। নাম শুনে অনেকে ঘাবড়ে গিয়েছিলো, জিজ্ঞাসা করেছিলো CSO কি? কারা তারা?

উত্তর সহজ Chief Struggling Officer। যারা ব্যবসা করতে গিয়ে স্ট্রাগল করছে; তাদের নিয়ে আড্ডা আয়োজন। শেষ পর্যন্ত আমরা ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুন টিকিট বিক্রি করেও প্রায় ৪গুন লোককে টিকিটই দিতে পারিনি। শেষমেষ দেখা গেলো এত লোককে জায়গা দিতে গিয়েও আমাদের সেকি স্ট্রাগল; আর তাতেই যেন সবাই খুশি!

—————————

খাপ ছাড়া পোষ্ট? ভাবুনতো আর একবার….

পূর্ব প্রকাশিতঃ https://www.somewhereinblog.net/blog/shafiulalamchowdhuryblog/30320917

Write A Comment